লাইসেন্স ছাড়াই সেবা দিচ্ছে উবার-সহজ-পাঠাও!
নীতিমালার শর্ত পূরণ না করায় এখনো বিআরটিএ’র তালিকাভুক্তি সনদ পায়নি অধিকাংশ রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ন্যূনতম মোটরযানের কোটা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় উবার ও পাঠাওয়ের পাশাপাশি লাইসেন্স পায়নি ওভাই, চালডাল, ইজিয়ার, আকাশ টেকনোলজি, সেজেস্টো লিমিটেড, বাডি লিমিটেড ও আকিজ অনলাইন লিমিটেড। আর রাইড শেয়ারিং ব্যবসায় ‘এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট’ বাধ্যতামূলক করার পরও তা না নিয়েই দিব্যি রাইড শেয়ার করছে উবার ও পাঠাওয়ের মতো কোম্পানি।
বর্তমানে রাইড শেয়ারিংয়ে উবার এবং পাঠাও ছাড়াও দেশে স্যাম, আমার রাইড, মুভ, বাহন, চলো অ্যাপে, ট্যাক্সিওয়ালা, ওই খালি, ইজিয়ার, লেটস গো ইত্যাদি নামে বিভিন্ন কোম্পানি অ্যাপভিত্তিক এই পরিবহন সেবা দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ এপ্রিল বিআরটিএ’র পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ‘এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট’ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এরইমধ্যে রাইডশেয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিআরটিএতে ‘এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের’ জন্য আবেদন করে ১২টি কোম্পানি।
এরপর নির্দেশ পেয়েই গত ১ জুলাই সবার প্রথম এই সনদ সংগ্রহ করে পিকমি। তাদেরপরই এই সনদ নিয়েছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)। ই-কমার্সে গ্রোসারি ব্যবসা দিয়ে পরিচিত চালডাল ডটকমও এই অনুমোদন নিয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। অবশ্য এক মাস পরও এই লাইসেন্স সংগ্র না করেই দিব্যি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ।
জানা গেছে, দেশে রাইডশেয়ার অ্যাপ উবারে চলাচল করছে ২০ হাজারের বেশি মোটরযান। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে মাত্র ১০০টি মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা না দেয়ায় এখনো বিআরটিএ-র এনলিস্টমেন্ট সনদ পায়নি তারা। একইভাবে মোটরসাইকেল-প্রাইভেট কার মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও এনলিস্টমেন্ট সনদ ছাড়াই রাস্তায় চলছে পাঠাও। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে সহজে চলাচল করছে ৩২ হাজারের বেশি মোটরযান থাকলেও একই দশা ‘সহজ’ এর।
এ বিষয়ে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমনিতেই কোম্পানিগুলোয় হাজার হাজার মোটরযান চলাচল করে। কিন্তু অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রেই দেখা গেছে সঠিক নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকা সত্ত্বেও অ্যাপে চলার জন্য নিবন্ধন দিয়েছে। কিন্তু বিআরটিএ তো সেসব দেখবে না। সঠিক নিয়ম অনুসরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজ ঠিকঠাক না থাকলে সেই যানবাহনকে বিআরটিএ কখনই কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্ত হিসেবে দেখাবে না।
এদিকে সরকারের রাইডশেয়ার নীতিমালার ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রাইডশেয়ারিং সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না, যদি না তা ন্যূনতম সংখ্যক মোটরযানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকে। এলাকাভেদে ন্যূনতম মোটরযানের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে নীতিমালায়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এলাকায় ন্যূনতম ১০০, চট্টগ্রাম মহানগরে ৫০ ও দেশের অন্যান্য মহানগর/শহর এলাকায় ন্যূনতম ২০টি মোটরযানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে।